বাড়িতে বসে মাড়ির যত্ন: সুস্থ হাসির প্রথম ধাপ
মুখের সৌন্দর্য মানেই ঝকঝকে দাঁত না। মাড়ি সুস্থ না থাকলে দাঁতও বেশিদিন টিকবে না। বাংলাদেশে প্রতি ৩ জনের ২ জনেরই কোনো না কোনো মাড়ির সমস্যা আছে। অথচ বাড়িতে বসেই খুব সহজে মাড়িকে সুস্থ রাখা যায়।
১. সঠিকভাবে ব্রাশ করা - দিনে ২ বার*
অনেকেই জোরে ঘষে ব্রাশ করি, এটা ভুল। নরম ব্রিসলের ব্রাশ দিয়ে ৪৫ ডিগ্রি কোণে মাড়ি আর দাঁতের সংযোগস্থলে আলতো করে বৃত্তাকারে ঘষুন। দিনে ২ বার, প্রতিবার ২ মিনিট। শক্ত ব্রাশ মাড়ি ক্ষয় করে দেয়।
২. ফ্লস করা - এটা বাদ দেওয়া যাবে না*
ব্রাশ দাঁতের ফাঁকের ময়লা ৪০% পরিষ্কার করতে পারে না। সেখানেই প্লাক জমে মাড়ি ফুলে যায়, রক্ত পড়ে। রাতে ঘুমানোর আগে একবার ফ্লস করুন। প্রথমে রক্ত পড়লেও ১ সপ্তাহ করলে বন্ধ হয়ে যাবে।
৩. লবণ-পানি দিয়ে কুলকুচি*
সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর ঘরোয়া টোটকা। ১ গ্লাস কুসুম গরম পানিতে আধা চা চামচ লবণ মিশিয়ে দিনে ২ বার কুলকুচি করুন। এটা মাড়ির জীবাণু মারে, ফোলা কমায়। বিশেষ করে মাড়ি থেকে রক্ত পড়লে এটা ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
৪. ধূমপান আর পান-সুপারি ছাড়ুন*
মাড়ি নষ্টের সবচেয়ে বড় কারণ এগুলো। সিগারেট মাড়ির রক্ত চলাচল বন্ধ করে দেয়। তাই মাড়ি দুর্বল হয়ে যায়, দাঁত নড়ে যায়।
৫. ভিটামিন সি আর পানি*
কমলা, লেবু, পেয়ারা, আমলকি - ভিটামিন সি মাড়ির কোলাজেন তৈরি করে। আর দিনে ২-৩ লিটার পানি খান। পানি লালা তৈরি করে যা মুখের ব্যাকটেরিয়া ধুয়ে দেয়। চিনি আর আঠালো খাবার কম খান।
৬. জিহ্বা পরিষ্কার করা*
জিহ্বার উপরেও প্রচুর ব্যাকটেরিয়া জমে। ব্রাশ করার সময় জিহ্বাও আলতো করে পরিষ্কার করুন। এতে মুখের দুর্গন্ধও কমবে।
কখন ডেন্টিস্টের কাছে যাবেন?
বাড়ির যত্ন ২ সপ্তাহ করার পরেও যদি নিচের লক্ষণ থাকে, তাহলে আর দেরি করবেন না:
1. ব্রাশ করলেই মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া
2. মাড়ি লাল, ফোলা বা দাঁত থেকে সরে যাওয়া
3. মুখে সবসময় দুর্গন্ধ
4. দাঁত নড়ে যাওয়া বা চিবাতে ব্যথা
মনে রাখবেন, মাড়ির রোগ একবার হলে পুরোপুরি ভালো হয় না, শুধু নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তাই প্রতিরোধই সেরা চিকিৎসা।
ডা: সানিয়াত তূর্য্য
কিশোরগঞ্জ থেকে
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।