দৃশ্যপট ১:
সন্ধেবেলা শিশু বিভাগে ডিউটি করতেছিলাম,
এমন সময় একজন ভদ্রলোক, বয়স ৩০ বছর আনুমানিক হবে।
এসে বলে," ম্যাম আমার মায়ের চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার দরকার, আমি আমার একটা কিডনি বিক্রি করতে চাই!"
আমি আশ্চর্য হয়ে লোকটার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলাম। মনে মনে ভাবতেছিলাম টক্সিক পৃথিবীতে একজন নির্ঘাত ভালো মানুষের সন্ধান পেলাম।
মায়ের জন্য তার কতো প্রচেষ্টা!
দৃশ্যপট ২:
এরআগে যেদিন শিশুবিভাগে ইভিনিং ডিউটি ছিলো
একজন ভদ্রমহিলা ৪ মাসের একটা বাচ্চা নিয়ে আসছে,
বল্লাম ওর মাকে ডাকেন,
ভদ্রমহিলা ছিলো বাচ্চাটির প্রতিবেশী,
তিনি উত্তর দিলেন, বাচ্চাটির বাবা নেই, মাও রেখে চলে গেছে!😰
বাচ্চাটির চেহারাতে যেনো নূরের মতো আলোর ঝলকানি দিচ্ছে,
আমি রিকুয়েষ্ট করেছিলাম, বাচ্চাটি আমাকে দেন, আমি নিজের ছেলের মতো আদরযত্ন করে রাখবো সারাজীবন!
দেই নি!
এরপরে সে বাচ্চাটিকে সহ মহিলাটিকে আর দেখা পায় নি!
দৃশ্যপট ৩:
CCU থেকে ডিউটি করে হলে ফিরতেছি, নিচতলায় একজন পেশেন্টের সাথে দেখা।
আমাকে স্যার হিসেবেই সম্বোধন করেছিলো। সে ছিলো বার্ন প্লাস্টিক সার্জারির পেশেন্ট।
আমাকে বলে স্যার, " আমি খুবই গরিব মানুষ, পোড়া জায়গায় প্রচুর ব্যাথা করতেছে, একটা ওষুধ কিনতে হবে দাম ১১০ টাকা, আমার কাছে মাত্র ৩০ টাকা আছে!"
আমি পকেট থেকে ১০০ টাকা বের করে দিলাম।
সাথে সাথে চোখে তার পানি!
এই কয়েক ফোটা চোখের পানির মূল্য আরশে আজীমে অনেক অনেক গুণ বেশি দামি!
দৃশ্যপট ৪:
কতো শতশত রোগীর ডেথ ডিক্লেয়ার করে ডেথ সার্টিফিকেট লিখেছি তার হিসেব নেই,
তবে একজন রোগীর মৃত্যুতে আমার খুব খারাপ লেগেছিলো,
সে ছিলো ALVF এর পেশেন্ট। লোকটা ছিলো নিতান্ত একজন বাজারের সবজি ব্যবসায়ী,
তাকে ৫৫০ টাকার সরকারিতে কয়েকটা পরীক্ষা দেওয়া হয়েছিলো, এটা করার সামর্থ্যও তার ছেলের / তার ছিলো না,
সেদিন কাছে একটাকাও ছিলোও না,,,এতোটা খারাপ লাগছিলো বলতে পারবো না!
লোকটা যাইহোক পরেরদিন মারা গেছিলো!
এগুলো একটা হাসপাতালের নিত্যনতুন ঘটনা!
কতোকিছুর স্বাক্ষী আমরা প্রতিনিয়ত হচ্ছি!😰
৩৯ বার দেখা০ উপকারী · ০ মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।